০৫:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাদ্দাম হত্যা: মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও, ন্যায়বিচারের দাবিতে ফুঁসছে এলাকা

জহির শাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
  • Update Time : ০১:৩৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৯ Time View

 

জহির শাহ্, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ইং

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় টানা দুদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর শুক্রবার রাতে জেলা ছাত্রদলের কর্মী সাদ্দাম হোসেনের (২৫) মৃত্যুতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সাদ্দামের রক্তাক্ত মরদেহ নিয়ে শত শত ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সদর মডেল থানার সামনে জমায়েত হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানান এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি তোলেন।

নিহতের বাবা মস্তু মিয়া শুক্রবার রাতেই থানায় উপস্থিত হয়ে একটি এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে সাতজনের নাম উল্লেখসহ আরও পাঁচ-সাতজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সাদ্দামকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার পর তার ওপর হামলা চালিয়ে গুলি করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টা থেকে সাড়ে সাতটার মধ্যে কান্দিপাড়ার মূল সড়কে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় টুটুল, শিহাব উদ্দিন ও সাজু মিয়াসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দুটি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই এই ঘটনাগুলো ঘটছে।

থানার সামনে উপস্থিত এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা আর রক্ত দেখতে চাই না। শুধু চাই দোষীরা যেন আইনের কাছে দ্রুত ধরা পড়ে।

সদর মডেল থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম জানান, “এজাহারটি হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কান্দিপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকাবাসী আশা করছেন, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শান্তি ফিরে আসবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাদ্দাম হত্যা: মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও, ন্যায়বিচারের দাবিতে ফুঁসছে এলাকা

Update Time : ০১:৩৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

 

জহির শাহ্, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ইং

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় টানা দুদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর শুক্রবার রাতে জেলা ছাত্রদলের কর্মী সাদ্দাম হোসেনের (২৫) মৃত্যুতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সাদ্দামের রক্তাক্ত মরদেহ নিয়ে শত শত ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সদর মডেল থানার সামনে জমায়েত হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানান এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি তোলেন।

নিহতের বাবা মস্তু মিয়া শুক্রবার রাতেই থানায় উপস্থিত হয়ে একটি এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে সাতজনের নাম উল্লেখসহ আরও পাঁচ-সাতজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সাদ্দামকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার পর তার ওপর হামলা চালিয়ে গুলি করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টা থেকে সাড়ে সাতটার মধ্যে কান্দিপাড়ার মূল সড়কে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় টুটুল, শিহাব উদ্দিন ও সাজু মিয়াসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দুটি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই এই ঘটনাগুলো ঘটছে।

থানার সামনে উপস্থিত এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা আর রক্ত দেখতে চাই না। শুধু চাই দোষীরা যেন আইনের কাছে দ্রুত ধরা পড়ে।

সদর মডেল থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম জানান, “এজাহারটি হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কান্দিপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকাবাসী আশা করছেন, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শান্তি ফিরে আসবে।