০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লালদিয়া টার্মিনাল ইজারা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্র ইউনিয়নের তীব্র প্রতিবাদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান

জহির শাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
  • Update Time : ১১:৩৬:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৩৯ Time View

 

জহির শাহ্, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, ২১ নভেম্বর ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়া — দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও লগিস্টিক কেন্দ্র লালদিয়া টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে ইজারা দেওয়ার সরকারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে জেলা ছাত্র ইউনিয়ন বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) প্রেসক্লাব চত্বরের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।

সমাবেশে বক্তারা সতর্ক করে বলেছেন, দেশের জাতীয় সম্পদ নির্বাচিত সরকারের অনুমোদন ছাড়া বিদেশি সংস্থার হাতে হস্তান্তর করা হলে তা আইনগত ও সংবিধানগত বাধা তৈরি করবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করবে। জেলা ছাত্র ইউনিয়নের আহ্বায়ক ওমর ফারুক বলেন,
“জাতীয় সম্পদের ব্যবস্থাপনা শুধু অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ নয়; এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও আইনগত প্রক্রিয়া না মানলে তা শুধু অপব্যবহার নয়, ভবিষ্যতে আইনি লড়াইয়েরও জন্ম দেবে।”

সমাবেশে বক্তৃতা করেন রিত্তিক রবিদাস, শিহাব হাসান জাকো, যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসিন রেজা, জেলা সিপিবি সভাপতি সাজিদুর রহমান সাজিদ, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম স্বপন, উদীচীর জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ ও জেলা সিপিবি সদস্য আসমা খানম। তারা একযোগে উল্লেখ করেছেন, এই সিদ্ধান্ত “বিদেশি স্বার্থ রক্ষার সম্ভাব্য প্রয়াস” ছাড়া কিছু নয় এবং তা অবিলম্বে পুনঃমূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

মানববন্ধনে আরও বলা হয়, দেশের প্রধান বন্দর, শুল্ক ও লগিস্টিক সুবিধাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিদেশি সংস্থার হাতে হস্তান্তর করলে তা দেশীয় আইন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি উভয়কেই প্রভাবিত করতে পারে। অংশগ্রহণকারীরা প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

স্থানীয়রা বলেন, “এটি শুধুই একটি বন্দর নয়; দেশের অর্থনৈতিক রক্তচাপ। দেশের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া বিদেশি সংস্থার হাতে দেওয়া মানে সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপোষ।”

সমাবেশ শেষে পাঠানো বার্তায় জোর দেওয়া হয়েছে—দেশীয় সম্পদ সংরক্ষণ এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে নীতি ও আইন মেনে চলা অপরিহার্য। বিদেশি ইজারা অবিলম্বে পুনঃমূল্যায়ন না হলে আইনগত ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ এড়ানো সম্ভব হবে না।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

লালদিয়া টার্মিনাল ইজারা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্র ইউনিয়নের তীব্র প্রতিবাদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান

Update Time : ১১:৩৬:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

 

জহির শাহ্, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, ২১ নভেম্বর ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়া — দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও লগিস্টিক কেন্দ্র লালদিয়া টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে ইজারা দেওয়ার সরকারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে জেলা ছাত্র ইউনিয়ন বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) প্রেসক্লাব চত্বরের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।

সমাবেশে বক্তারা সতর্ক করে বলেছেন, দেশের জাতীয় সম্পদ নির্বাচিত সরকারের অনুমোদন ছাড়া বিদেশি সংস্থার হাতে হস্তান্তর করা হলে তা আইনগত ও সংবিধানগত বাধা তৈরি করবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করবে। জেলা ছাত্র ইউনিয়নের আহ্বায়ক ওমর ফারুক বলেন,
“জাতীয় সম্পদের ব্যবস্থাপনা শুধু অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ নয়; এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও আইনগত প্রক্রিয়া না মানলে তা শুধু অপব্যবহার নয়, ভবিষ্যতে আইনি লড়াইয়েরও জন্ম দেবে।”

সমাবেশে বক্তৃতা করেন রিত্তিক রবিদাস, শিহাব হাসান জাকো, যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসিন রেজা, জেলা সিপিবি সভাপতি সাজিদুর রহমান সাজিদ, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম স্বপন, উদীচীর জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ ও জেলা সিপিবি সদস্য আসমা খানম। তারা একযোগে উল্লেখ করেছেন, এই সিদ্ধান্ত “বিদেশি স্বার্থ রক্ষার সম্ভাব্য প্রয়াস” ছাড়া কিছু নয় এবং তা অবিলম্বে পুনঃমূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

মানববন্ধনে আরও বলা হয়, দেশের প্রধান বন্দর, শুল্ক ও লগিস্টিক সুবিধাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিদেশি সংস্থার হাতে হস্তান্তর করলে তা দেশীয় আইন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি উভয়কেই প্রভাবিত করতে পারে। অংশগ্রহণকারীরা প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

স্থানীয়রা বলেন, “এটি শুধুই একটি বন্দর নয়; দেশের অর্থনৈতিক রক্তচাপ। দেশের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া বিদেশি সংস্থার হাতে দেওয়া মানে সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপোষ।”

সমাবেশ শেষে পাঠানো বার্তায় জোর দেওয়া হয়েছে—দেশীয় সম্পদ সংরক্ষণ এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে নীতি ও আইন মেনে চলা অপরিহার্য। বিদেশি ইজারা অবিলম্বে পুনঃমূল্যায়ন না হলে আইনগত ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ এড়ানো সম্ভব হবে না।