নাসিরনগরে বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নে জনসমাবেশ: পরিবর্তনের ডাক, প্রতিরোধের অঙ্গীকার
- Update Time : ০৯:০০:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
- / ৪৫ Time View
জহির শাহ্ , ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি,
১৮ নভেম্বর ২০২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর—যেন বাংলার রাজনীতির এক ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি। আর সেই মঞ্চে সোমবার বিকেলে ফান্দাউক ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো কেন্দ্রীয় ঘোষিত তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন নিয়ে এক মতবিনিময় সভা—যার ভাষা, ভঙ্গি আর উত্তাপ রাজনৈতিক ইতিহাসের বহু কাহিনীর মনে করিয়ে দেয়।
ফান্দাউক পুরাতন গরুর বাজার মাঠে বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সফিকুল ইসলাম। সঞ্চালনায় ছিলেন কাজী ইয়ার খান ও ফয়েজ আনছারি।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া–১ (নাসিরনগর) আসনের বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. এ. হান্নান। তাঁর বক্তব্যে একদিকে ছিল ন্যায়বিচারের ডাক, অন্যদিকে ছিল তীব্র নিপীড়ন-বিরোধী ভাষার ঝড়, আবার ছিল বাংলার মাটির মানুষের আবেগমাখা আকুতি।
“বাংলাদেশ আজ ন্যায়বিচারের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে,” দৃঢ়তার সাথে বলেন এম. এ. হান্নান।
“একদা যাকে ক্ষমতার দুর্গ মনে করা হতো, সেই দুর্গ আজ ধ্বসে পড়ছে আদালতের রায়ে। পলাতক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়ে—বাংলাদেশ এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।”
তিনি আরো বলেন“জনগণ জেগে উঠেছে। জালিমের দিন শেষ। ৩১ দফা শুধু একটি রাজনৈতিক পরিকল্পনা নয়—এটি মুক্তির রূপরেখা।”
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে অ্যাডভোকেট আলী আজম চৌধুরী বলেন,
“আজকের নাসিরনগর প্রমাণ দিয়েছে—গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করা যায়, কিন্তু মানুষের ইচ্ছাশক্তিকে কখনো থামানো যায় না।”
তাঁর বক্তব্যে ছিল দৃঢ়তা এবং সংগ্রামধর্মী আহ্বান।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী, আলমগীর হোসেন, আজগর পাঠান, অ্যাডভোকেট আরাফাত উল্লাহ ও আব্বাস মিয়া।
তাঁদের বক্তব্যে ছিল পরিবর্তন, প্রতিরোধ, ন্যায়—সবকিছুর মিশ্রণ। কেউ বললেন নীরব বিপ্লবের কথা, কেউ বললেন আগামী দিনের সংগ্রামের কথা।
উপজেলা যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা একে একে বক্তব্য রাখেন। তাঁদের কথায় প্রতিধ্বনিত হয় একটাই বার্তা—দেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাবে।
হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তিতন ফকির বলেন,“বাংলাদেশের মানুষ ভয়কে জয় করেছে। ভয় বিজয়ীর মুখোমুখি হতে পারে না।”
সভাস্থলে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, কিন্তু একই সঙ্গে ছিল প্রতিরোধের সুর—মিশে ছিল নানা রাজনৈতিক নেতার টোনের প্রতিধ্বনি।
শেষে এম. এ. হান্নান ঘোষণা করলেন—“এ লড়াই কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, এ লড়াই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মুক্তির লড়াই। বিএনপির ৩১ দফা হবে সেই মুক্তির পথনকশা।”
ফান্দাউকের মাঠে জমায়েত হওয়া মানুষের মুখে যেন একই দাবি—
পরিবর্তন চাই, ন্যায়বিচার চাই, গণতন্ত্র চাই।














