০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নাসিরনগরে পুঁটি মাছের চ্যাপা শুটকি তৈরিতে জেলেরা ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে

নাসিরনগর ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
  • Update Time : ১১:৪১:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৪৮ Time View

 

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধি :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন জেলে পল্লীতে চলছে পুঁটি মাছের ঐতিহ্যবাহী চ্যাপা শুটকি তৈরির মৌসুমি ব্যস্ততা। ভোর থেকেই জেলেরা এবং তাদের পরিবারের নারী সদস্যরা মাছ ধোয়া, কাটা, লবণ মেশানো ও বাঁশের মাচায় শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কার্তিক থেকে পৌষ পর্যন্ত এই সময়টিকে শুটকি মৌসুম হিসেবে ধরা হয়, আর এ সময়েই সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়।

স্থানীয় জেলেরা জানান, মিঠাপানির দেশীয় পুঁটি মাছ দিয়ে তৈরি চ্যাপা শুটকির চাহিদা সবসময়ই বেশি। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি শুটকি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়, যা অনেক পরিবারের একমাত্র আয়ভরসা। তবে স্থানীয় বিল-হাওড়ে পুঁটি মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় আগের মতো উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক জেলে হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের হাওড় থেকে মাছ কিনে এনে শুটকি তৈরি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

জেলে পল্লীর হিরালাল দাস বলেন, “একসময় আমাদের বিলেই প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এখন মাছের জন্য দূরে যেতে হয়, খরচও বেড়ে গেছে।” আরেক জেলে পরিমল দাস জানান, “মূলধন কম থাকায় ধার-দেনা করে কাজ চালাতে হয়।”

জেলেরা মনে করেন, সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা ও সহজ ঋণ সুবিধা পেলে এই ঐতিহ্যবাহী শুটকি শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

নাসিরনগরে পুঁটি মাছের চ্যাপা শুটকি তৈরিতে জেলেরা ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে

Update Time : ১১:৪১:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

 

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধি :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন জেলে পল্লীতে চলছে পুঁটি মাছের ঐতিহ্যবাহী চ্যাপা শুটকি তৈরির মৌসুমি ব্যস্ততা। ভোর থেকেই জেলেরা এবং তাদের পরিবারের নারী সদস্যরা মাছ ধোয়া, কাটা, লবণ মেশানো ও বাঁশের মাচায় শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কার্তিক থেকে পৌষ পর্যন্ত এই সময়টিকে শুটকি মৌসুম হিসেবে ধরা হয়, আর এ সময়েই সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়।

স্থানীয় জেলেরা জানান, মিঠাপানির দেশীয় পুঁটি মাছ দিয়ে তৈরি চ্যাপা শুটকির চাহিদা সবসময়ই বেশি। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি শুটকি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়, যা অনেক পরিবারের একমাত্র আয়ভরসা। তবে স্থানীয় বিল-হাওড়ে পুঁটি মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় আগের মতো উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক জেলে হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের হাওড় থেকে মাছ কিনে এনে শুটকি তৈরি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

জেলে পল্লীর হিরালাল দাস বলেন, “একসময় আমাদের বিলেই প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এখন মাছের জন্য দূরে যেতে হয়, খরচও বেড়ে গেছে।” আরেক জেলে পরিমল দাস জানান, “মূলধন কম থাকায় ধার-দেনা করে কাজ চালাতে হয়।”

জেলেরা মনে করেন, সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা ও সহজ ঋণ সুবিধা পেলে এই ঐতিহ্যবাহী শুটকি শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।