১২:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নবীনগরে সরকারি সার ছিনতাই: জাহাজ জব্দ, মূল হোতা অধরা

জহির শাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৬:৫০:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৮ Time View

 

জহির শাহ্ | ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি | ১২ নভেম্বর ২০২৫

নবীনগরে নৌ পুলিশের অভিযানে সরকারি ডিএপি সারবোঝাই একটি কার্গো জাহাজ জব্দ ও বিপুল সংখ্যক সার উদ্ধার করা হয়েছে; তবে ঘটনায় যাঁরা মূল পরিকল্পনাকারী তাদের শনাক্তের কাজ এখনও চলছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদীর রায়পুরা থেকে সুনামগঞ্জের সরকারি গুদামের উদ্দেশ্যে যাওয়া জাহাজটি গতকালে ছিনতাই করা হয়। ছিনতাইকারীরা জাহাজটির নাবিকদের বাঁধা অবস্থায় নদীর তীরে ফেলে রেখে যানবাহন ও মাল অন্যান্য স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান। পরে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে জাহাজটি নবীনগর উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকায় অবস্থান করছে বলে তথ্য পেয়ে নৌ পুলিশ ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় অভিযান চালায়।

অভিযানকালে জাহাজ থেকে আনলোড করা অবস্থায় প্রায় ১,৪০০ বস্তা সরকারি সার উদ্ধার করা হয়; জাহাজে মোট ছিল ৬,৩৪০ বস্তা। উদ্ধার হওয়া সারের মধ্যে প্রায় ৫০০ বস্তা পাওয়া গেছে শিবনগরের সানাউল্লাহের বাড়িতে, আর ৪০০ বস্তা পাওয়া গেছে নোয়াগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ বোরহান উদ্দিন সরদারের গোডাউনে। উদ্ধারকালে মালবাহী জাহাজটি জব্দ করা হয় এবং উদ্ধারকৃত বস্তাগুলো আইনগত প্রক্রিয়ায় রাখা হয়েছে।

স্থানীয়রা দাবি করেছেন, প্রতিদিনই কার্গো থেকে বস্তা নামিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে; বেশকিছু ব্যক্তি তৎপর ছিল বলে তাদের বক্তব্য। বোরহান উদ্দিনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি; অপর একজন সানাউল্লাহ প্রথমে কথা বলতে অনিচ্ছুক ছিলেন, পরে বলেছেন যে তিনি বস্তা আনতে বোরহানের অনুমতি পেয়েছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে আরো বলা হচ্ছে, নোয়াগাঁওয়ের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ উঠেছে—কিন্তু এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত আইনি পদক্ষেপ হয়েছে কি না সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র ভিন্নভাবে বলছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে প্রভাবের কারণে ঘটনা গোপনভাবে সমাধান করা হতে পারে, তাই তারা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত চাচ্ছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং আসল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এক সিনিয়র জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা (নাম প্রকাশ না করে) বলেন, “আমরা প্রতিটি আলামত যাচাই করে তদন্ত চালাচ্ছি; যারা মূল অপরাধীদের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একই সঙ্গে প্রশাসন ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছেও বিষয়টি নেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

এ ঘটনায় মানুষ চাইছেন—সরকারি সম্পদ লুটে নেয়ার যততাই জটিলতা থাকুক, শেষ পর্যন্ত দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। জনস্বার্থে আশা করা হচ্ছে তদন্ত দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে, যাতে পুনরায় এ ধরনের ঘটনাকে রোধ করা যায়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

নবীনগরে সরকারি সার ছিনতাই: জাহাজ জব্দ, মূল হোতা অধরা

Update Time : ০৬:৫০:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

 

জহির শাহ্ | ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি | ১২ নভেম্বর ২০২৫

নবীনগরে নৌ পুলিশের অভিযানে সরকারি ডিএপি সারবোঝাই একটি কার্গো জাহাজ জব্দ ও বিপুল সংখ্যক সার উদ্ধার করা হয়েছে; তবে ঘটনায় যাঁরা মূল পরিকল্পনাকারী তাদের শনাক্তের কাজ এখনও চলছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদীর রায়পুরা থেকে সুনামগঞ্জের সরকারি গুদামের উদ্দেশ্যে যাওয়া জাহাজটি গতকালে ছিনতাই করা হয়। ছিনতাইকারীরা জাহাজটির নাবিকদের বাঁধা অবস্থায় নদীর তীরে ফেলে রেখে যানবাহন ও মাল অন্যান্য স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান। পরে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে জাহাজটি নবীনগর উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকায় অবস্থান করছে বলে তথ্য পেয়ে নৌ পুলিশ ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় অভিযান চালায়।

অভিযানকালে জাহাজ থেকে আনলোড করা অবস্থায় প্রায় ১,৪০০ বস্তা সরকারি সার উদ্ধার করা হয়; জাহাজে মোট ছিল ৬,৩৪০ বস্তা। উদ্ধার হওয়া সারের মধ্যে প্রায় ৫০০ বস্তা পাওয়া গেছে শিবনগরের সানাউল্লাহের বাড়িতে, আর ৪০০ বস্তা পাওয়া গেছে নোয়াগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ বোরহান উদ্দিন সরদারের গোডাউনে। উদ্ধারকালে মালবাহী জাহাজটি জব্দ করা হয় এবং উদ্ধারকৃত বস্তাগুলো আইনগত প্রক্রিয়ায় রাখা হয়েছে।

স্থানীয়রা দাবি করেছেন, প্রতিদিনই কার্গো থেকে বস্তা নামিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে; বেশকিছু ব্যক্তি তৎপর ছিল বলে তাদের বক্তব্য। বোরহান উদ্দিনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি; অপর একজন সানাউল্লাহ প্রথমে কথা বলতে অনিচ্ছুক ছিলেন, পরে বলেছেন যে তিনি বস্তা আনতে বোরহানের অনুমতি পেয়েছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে আরো বলা হচ্ছে, নোয়াগাঁওয়ের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ উঠেছে—কিন্তু এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত আইনি পদক্ষেপ হয়েছে কি না সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র ভিন্নভাবে বলছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে প্রভাবের কারণে ঘটনা গোপনভাবে সমাধান করা হতে পারে, তাই তারা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত চাচ্ছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং আসল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এক সিনিয়র জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা (নাম প্রকাশ না করে) বলেন, “আমরা প্রতিটি আলামত যাচাই করে তদন্ত চালাচ্ছি; যারা মূল অপরাধীদের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একই সঙ্গে প্রশাসন ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছেও বিষয়টি নেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

এ ঘটনায় মানুষ চাইছেন—সরকারি সম্পদ লুটে নেয়ার যততাই জটিলতা থাকুক, শেষ পর্যন্ত দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। জনস্বার্থে আশা করা হচ্ছে তদন্ত দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে, যাতে পুনরায় এ ধরনের ঘটনাকে রোধ করা যায়।