০৭:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দৌলতবাড়ি চিশতিয়া দাখিল মাদ্রাসার জোয়ার—ইসলামি ফাউন্ডেশন প্রতিযোগিতায় সাফল্যের শিখরে শিক্ষার্থীরা

জহির শাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
  • Update Time : ১২:১৮:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৭২ Time View

 

জহির শাহ্ | ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি | ১১ নভেম্বর ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাতাসে আজ এক মিষ্টি গর্বের সুবাস। দৌলতবাড়ি চিশতিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জয় করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত জাতীয় শিশু-কিশোর ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা–২০২৫-এর উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান!
বিজয়নগর উপজেলার নানা প্রান্ত থেকে আগত প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে এই শিক্ষার্থীরা দেখিয়ে দিয়েছে—যেখানে জ্ঞান, ধর্ম ও নৈতিকতার আলো একসঙ্গে জ্বলে, সেখানে বিজয় কেবল সময়ের অপেক্ষা।

১০ই নভেম্বর উপজেলা মডেল মসজিদের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ক্বিরাত, হামদ-নাত, আজান, ইসলামী জ্ঞান, রচনা ও উপস্থিত বক্তৃতার প্রতিটি পর্বে দৌলতবাড়ির শিক্ষার্থীদের ঝলক যেন ছিল এক শিল্পিত সিম্ফনি। তাদের কণ্ঠে যখন হামদের সুর উঠছিল, মনে হচ্ছিল পাখিরাও যেন থমকে দাঁড়িয়ে শুনছে।

এই অনন্য অর্জনকে ঘিরে ১১ নভেম্বর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় এক জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সভাপতি হিসেবে মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠানটির শ্রদ্ধেয় সুপারিন্টেন্ডেন্ট মুফতি সুফি আমির হোসাইন, যার প্রজ্ঞাময় নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি আজ গৌরবের শিখরে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এই সময়ের বিশিষ্ট সাংবাদিক, প্রবন্ধকার ও প্রতিষ্ঠানের প্রিয় শিক্ষক জহির শাহ্—যাঁর উপস্থিতিতে যেন পুরো আয়োজন নতুন এক প্রাণ পায়।

জহির শাহ্ তাঁর অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতায় বলেন, “এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের আলোর বাহক। তারা শুধু মঞ্চে নয়, সমাজেও ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিনিধি হয়ে উঠুক—এই কামনাই করি।”
তাঁর কথার প্রতিটি শব্দে ঝরে পড়ছিল শিক্ষকসুলভ মমতা ও সাংবাদিকসুলভ প্রখর দৃষ্টি।

অনুষ্ঠানে একে একে শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করে ক্বিরাত, হামদ, নাত, আবৃত্তি ও ইসলামী বক্তৃতা—যার প্রতিটি পরিবেশনা ছিল প্রশান্তির ছোঁয়া আর শিল্পের মাধুর্যে ভরা। দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে করতালি দিয়ে জানিয়েছে তাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।

পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে প্রবল আলো ছড়িয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভালোবাসার বন্ধন। সংবর্ধনা শেষে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, যেখানে শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং মাদ্রাসার ক্রমোন্নতির জন্য মোনাজাত করা হয়।

শেষে বলা চলে—দৌলতবাড়ি চিশতিয়া দাখিল মাদ্রাসার এই সাফল্য শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, এটি গোটা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গর্ব, এক আলোকিত উদাহরণ। আর এর পেছনে যিনি ছায়ার মতো থেকেছেন শিক্ষার্থীদের পাশে—তিনি শিক্ষক ও সাংবাদিক জহির শাহ্, যাঁর প্রেরণা যেন এক অবিরাম দীপ্তি হয়ে পথ দেখায় নতুন প্রজন্মকে।

এই অর্জনে যেন প্রতিধ্বনিত হয় একটি বার্তা—
“আলোকিত মানুষ গড়তে দৌলতবাড়ি চিশতিয়া দাখিল মাদ্রাসাই যথেষ্ট।”

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

দৌলতবাড়ি চিশতিয়া দাখিল মাদ্রাসার জোয়ার—ইসলামি ফাউন্ডেশন প্রতিযোগিতায় সাফল্যের শিখরে শিক্ষার্থীরা

Update Time : ১২:১৮:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

 

জহির শাহ্ | ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি | ১১ নভেম্বর ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাতাসে আজ এক মিষ্টি গর্বের সুবাস। দৌলতবাড়ি চিশতিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জয় করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত জাতীয় শিশু-কিশোর ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা–২০২৫-এর উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান!
বিজয়নগর উপজেলার নানা প্রান্ত থেকে আগত প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে এই শিক্ষার্থীরা দেখিয়ে দিয়েছে—যেখানে জ্ঞান, ধর্ম ও নৈতিকতার আলো একসঙ্গে জ্বলে, সেখানে বিজয় কেবল সময়ের অপেক্ষা।

১০ই নভেম্বর উপজেলা মডেল মসজিদের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ক্বিরাত, হামদ-নাত, আজান, ইসলামী জ্ঞান, রচনা ও উপস্থিত বক্তৃতার প্রতিটি পর্বে দৌলতবাড়ির শিক্ষার্থীদের ঝলক যেন ছিল এক শিল্পিত সিম্ফনি। তাদের কণ্ঠে যখন হামদের সুর উঠছিল, মনে হচ্ছিল পাখিরাও যেন থমকে দাঁড়িয়ে শুনছে।

এই অনন্য অর্জনকে ঘিরে ১১ নভেম্বর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় এক জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সভাপতি হিসেবে মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠানটির শ্রদ্ধেয় সুপারিন্টেন্ডেন্ট মুফতি সুফি আমির হোসাইন, যার প্রজ্ঞাময় নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি আজ গৌরবের শিখরে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এই সময়ের বিশিষ্ট সাংবাদিক, প্রবন্ধকার ও প্রতিষ্ঠানের প্রিয় শিক্ষক জহির শাহ্—যাঁর উপস্থিতিতে যেন পুরো আয়োজন নতুন এক প্রাণ পায়।

জহির শাহ্ তাঁর অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতায় বলেন, “এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের আলোর বাহক। তারা শুধু মঞ্চে নয়, সমাজেও ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিনিধি হয়ে উঠুক—এই কামনাই করি।”
তাঁর কথার প্রতিটি শব্দে ঝরে পড়ছিল শিক্ষকসুলভ মমতা ও সাংবাদিকসুলভ প্রখর দৃষ্টি।

অনুষ্ঠানে একে একে শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করে ক্বিরাত, হামদ, নাত, আবৃত্তি ও ইসলামী বক্তৃতা—যার প্রতিটি পরিবেশনা ছিল প্রশান্তির ছোঁয়া আর শিল্পের মাধুর্যে ভরা। দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে করতালি দিয়ে জানিয়েছে তাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।

পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে প্রবল আলো ছড়িয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভালোবাসার বন্ধন। সংবর্ধনা শেষে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, যেখানে শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং মাদ্রাসার ক্রমোন্নতির জন্য মোনাজাত করা হয়।

শেষে বলা চলে—দৌলতবাড়ি চিশতিয়া দাখিল মাদ্রাসার এই সাফল্য শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, এটি গোটা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গর্ব, এক আলোকিত উদাহরণ। আর এর পেছনে যিনি ছায়ার মতো থেকেছেন শিক্ষার্থীদের পাশে—তিনি শিক্ষক ও সাংবাদিক জহির শাহ্, যাঁর প্রেরণা যেন এক অবিরাম দীপ্তি হয়ে পথ দেখায় নতুন প্রজন্মকে।

এই অর্জনে যেন প্রতিধ্বনিত হয় একটি বার্তা—
“আলোকিত মানুষ গড়তে দৌলতবাড়ি চিশতিয়া দাখিল মাদ্রাসাই যথেষ্ট।”